যুক্তরাজ্য যুবলীগের ত্রি- বার্ষিক সম্মেলন ২০১২ সম্পন্ন: ফখরুল ইসলাম মধু ও সেলিম আহমেদ খান আগামী তিন বৎসরের জন্য যুক্তরাজ্য যুবলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত


গতকাল ২০/০৬/২০১২ রোজ বুধবার ইস্ট লন্ডনের রয়েল রিজেন্ট বেঙ্কুটিং হলে প্রায় ১৪০০ নেতা কর্মীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহন, মুহুর মুহুর স্লোগান আর করতালির মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হল যুক্তরাজ্য আওয়ামী – যুবলীগের বহুল প্রতীক্ষিত ও আলোচিত ত্রি – বার্ষিক সম্মেলন ২০১২ । সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করে সভার প্রথম পর্বের শুভ সূচনা ঘটে । এরপর সকলে দাড়িয়ে মন মাতিয়ে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন । এর পরপরি পায়রা উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নব- নির্বাচিত যুগ্ন সাধারন সম্পাদক, মাননীয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব জাহাঙ্গীর কবীর নানক, বাংলাদেশ আওয়ামী-যুবলীগের চেয়ারম্যান জনাব ওমর ফারুক চৌধুরী ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ, বাংলাদেশ আওয়ামী – যুবলীগের সাধারন সম্পাদক জনাব মির্জা আজম এম পি ।

পুনরায় মঞ্চে এসে মাইকে আনুষ্ঠানিক ভাবে সম্মেলনের শুভ উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ আওয়ামী-যুবলীগের চেয়ারম্যান জনাব ওমর ফারুক চৌধুরী ।সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের নব- নির্বাচিত যুগ্ন সাধারন সম্পাদক, মাননীয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী জনাব জাহাঙ্গীর কবীর নানক। তিনি তার বক্তব্বে যুক্তরাজ্য যুবলীগের প্রতি বিগত ১/১১ এর সময় জননেত্রী শেখ হাসিনার মুক্তির আন্দোলন সহ সব সময় বাংলাদেশ আওয়ামী – যুবলীগকে সাহায্য সহযোগিতা করার জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন বিগত জোট সরকারে সময় আমার ও আমার পরিবারের প্রতিও নির্যাতন নেমে এসেছিল, কিন্তু আমাদের দাবাতে পারেনি। কারন, আমার নেত্রী, বাংলার গন মানুষের আস্থার প্রতীক, বিশ্ব শান্তির দূত, গণতন্ত্রের মানস কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে বলেছিলেন ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার, গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে যুবলীগকে এমন ভাবে সংগঠিত করতে হবে যেন যুবলীগ তার মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। আমারা আমাদের অন্তর দিয়ে চেষ্টা করেছি, সব হারিয়ে যিনি আমাদের মুখপানে চেয়েছিলেন, লড়াই সংগ্রাম করেছেন, বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন তবু মানুষের অধিকার আদায়ে কোনদিন পিছু হটেননি, আমরা সেই নেত্রীর নেতৃতে যুবলীগকে সুসংগঠিত করেছিলাম, একটি সুশৃঙ্খল সংগঠনে পরিনত করেছিলাম । আর তারই প্রমান হল আজকের যুক্তরাজ্য যুবলীগের সুন্দর, শুসংগঠিত, সুশৃঙ্খল ত্রি – বার্ষিক সম্মেলন । আমাদেরকে মনে রাখতে হবে জনগন আমাদেরকে রায় দিয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃতের প্রতি মানুষ তার হৃদয় উজাড় করে সমর্থন দিয়েছে। আমাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে গিয়ে আমারা কি পেয়েছিলাম, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধত্তর বাংলাদেশ, স্বাধীনতাত্তর বাংলাদেশকে যেমনি ধ্বংসের লীলা ভূমিতে পরিনত করে গিয়েছিল, ঠিক তেমনি ভাবে বিএনপি জামাত জোট রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান ও কোকোদের বিকল্প সরকার, কোকোর বিকল্প সরকার, তারেকদের বিকল্প সরকার হাওয়া ভবন সরকার কায়েম করে সেদিন এক নৈরাজ্যকর রাষ্ট্র বেবস্থা কায়েম করেছিলেন । আজ বাংলার ১৬ কোটি মানুষের আস্থার প্রতীক জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃতে বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সর্ব ক্ষেতে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে, কারন আওয়ামীলীগ সরকার জনগনের সরকার, টাকা লুটপাটের ধান্দা থাকলে তো আর দেশের ও জনগনের উন্নয়ন করা যায় না। তিনি বিগত সময়ের চেয়ে আরও বেশি শক্তিশালী ভুমিকায় সকল আন্দোলন সংগ্রামে যুক্তরাজ্য যুবলীগের অবদান রাখার আশা প্রকাশ করেন ।

প্রধান বক্তার বক্তব্বে জনাব মির্জা আজম সাহেব বলেন ১৯৯৪ সালে সালে জন নেত্রী আমাকে যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। তার পরে ২০০৩ সালে আমাকে সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। এবার আমার বিদায়ের পালা। আমি সংগঠনের স্বার্থে আপনাদের অনেকের সাথে খারাপ ব্যাবহার করেছি, মনে কিছু করবেন না। আপনারা জানেন আমরা অতান্ত বেস্ত সময় অতিবাহিত করছি, আগামী মাসে বাংলাদেশ আওয়ামী – যুবলীগের কেন্দ্রীয় পরিষদের জাতীয় সম্মেলন। তবু আমাদের যুক্তরাজ্য যুবলীগের সম্মেলনে আসতে হয়েছে, কারন এখন যুক্তরাজ্য বাংলাদেশ বিরোধী, রাজাকারদের বিচারের বিরুদ্ধে, সকল দুরনিতিবাজদের রক্ষার জন্য করনীয় সকল প্রকার ষড়যন্ত্র এই লন্ডনের মাটিতে হচ্ছে। আমারা এমন কমিটি দিয়ে যাব যারা কোন টাকার লোভে, মৃত্যুর ভয়ে সংগঠনকে ছেড়ে যাবে না, দলের কোন ক্ষতি করবে না। আমারা যুক্তরাজ্য যুবলীগের কাছ থেকে আরও অনেক বেশি আশা করি, আশা করি আগামী দিনের সকল আন্দোলন সংগ্রামে আপনারা অতীতের ন্যায় অত্তান্ত জোড়াল ভূমিকা রাখবেন ।

সম্মেলনের উদ্বোধক জনাব ওমর ফারুক চৌধুরী অনেক বাস্তবিক উদাহরণ দিয়ে দলের প্রতি মমত্ববোধ, আদর্শবান ও পরিশ্রমী হবার উপদেশ দেন । পাশাপাশি, ক্ষমতা পেয়ে ক্ষমতার অপ – ব্যাবহার না করার হুশিয়ারি দেন । বলেন, বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া যুবলীগ কথা বলে দেশ, মাটি ও মানুষের। যুবলীগের প্রতিটি নেতা ও কর্মীকে হতে হবে আদর্শবান ও পরোপকারী । আগামীদিনে যুক্তরাজ্য যুবলীগের সফলতা কামনা করেন তিনি ।

যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সম্মানিত সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব সুলতান মাহমুদ শরীফ সাহেব যুক্তরাজ্য যুবলীগকে এতো মানুষের সমাগমের মধ্য দিয়ে একটি সফল সম্মেলন করার জন্য ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি আগামিদিনে যুক্তরাজ্য যুবলীগ আওয়ামীলীগের সাথে সকল আন্দলন সংগ্রামে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন ।

যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের বিপ্লবী সাধারন সম্পাদক জনাব সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে জাতীয় নেতৃবৃন্দদের আসস্থ করে বলেন আপনাদের দেয়া কমিটিই আগামী দিনে প্রমান করবে তারা কতটা সফল । তিনি নবনির্বাচিত যুক্তরাজ্য যুবলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে আওয়ামীলীগের সাথে সকল আন্দোলন সংগ্রামে ঐক্যবধ্য হয়ে কাজ করার আহবান জানান।

জাতীয় নেতৃবৃন্দ সহ যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক, যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাবেক সফল সাধারন সম্পাদক ও সভাপতি জনাব আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী কে আজকের এই বিশাল যুব সংগঠন উপহার দেবার জন্য ও বিশাল পরিসরে মনমুগ্ধকর পরিবেশে সম্মেলন করার জন্য বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও আজকের এই সফলতা তারই প্রাপ্য বলে উল্লেখ করেন । জনাব আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর জনপ্রিয়তা যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কর্মীদের মাঝে নজরে পরার মতো। উনি বক্তব্য দেবার সময় স্লোগানে আর করতালিতে মুখরিত হতে থাকে সমগ্র হল রুম। এক বিব্রত অবস্থায় পরে তিনি একসময় বক্তব্য না দেবার সিধান্ত নেন। তবে কিছুক্ষণ পরে সকলে শান্ত হয়ে বসলে সকলের হৃদয় কাড়া বক্তব্য দিয়ে বলেন আজকে নতুন যে নেতৃত্ব আসবে তারা আমাদের চাইতেও আরও বেশি সাংগঠনিক ভাবে শক্তিশালী হবে, কারন আমি সবসময় যুবলীগের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য একজন নেতা নয়, কর্মীর মতো কাজ করে গিয়েছি, আগামিতেও করবো।

নেতৃবৃন্দ যুক্তরাজ্য যুবলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক ও বর্তমান যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের ক্রিয়া বিষয়ক সম্পাদক জনাব তারিফ আহমেদ কেউ বিগত যুবলীগ কে সুসংগঠিত করার জন্য এবং সবসময় অত্তান্ত সুন্দর বক্তব্য দেয়ার জন্য প্রশংসা করেন।

সম্মেলনে সিলেট এর মাননীয় মেয়র জনাব বদর উদ্দিন আহমেদ কামরান, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রেসেডিয়াম সদস্য জনাব ফজলুল করিম সেলিম – (শেখ সেলিম) সাহেবের ছেলে সহ যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের সহ – সভাপতি বৃন্দ, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মণ্ডলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মণ্ডলী সহ যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগের, মহানগর আওয়ামীলীগ, যুক্তরাজ্য যুবলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও যুক্তরাজ্য ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। (বক্তাদের নামের তালিকা পরবর্তী খবরে প্রকাশ করা হবে)।

সবশেষে, যুক্তরাজ্য আওয়ামীলীগ নেত্রীবৃন্দের দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে জনাব মির্জা আজম সাহেব জনাব ফখরুল ইসলাম মধু ও জনাব সেলিম আহমেদ খানকে আগামী তিন বৎসরের জন্য যুক্তরাজ্য যুবলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করেন ।